পাঁচ কোটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই উদ্যোগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী করতে হবে। মোবাইল বা অন্য কোনো মাধ্যমে কাউকে হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করা যাবে না। বাসসে যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুনেছি এবং এটি দুঃখজনক।’
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নগদ অর্থ সরাসরি বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে হতদরিদ্র এবং নারী পরিবারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে প্রথমেই সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা সহায়তা পাবে।’
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হবে। ধাপে ধাপে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র পরিবার, তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য দরিদ্র পরিবাররা কার্ড পাবেন।
ফ্যামিলি কার্ডে নগদ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সবচেয়ে দরিদ্র মানুষদের জীবনযাত্রা উন্নত করা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগে কোনও ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাত সহ্য করা হবে না।
এই প্রকল্পের আওতায় কার্ডধারীরা তাদের পরিবার ভিত্তিক তথ্য ডিজিটালভাবে নিবন্ধন করাতে পারবেন। প্রতিটি কার্ডে পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। এছাড়া, ফ্যামিলি কার্ড ধারকরা বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সুবিধা সহজে পেতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র নগদ সহায়তা নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
সরকার আশা করছে, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের পর দেশে ধাপে ধাপে আরও বৃহত্তর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় নগদ বিতরণ, তথ্যভিত্তিক সুবিধা এবং সামাজিক সহায়তা মিলিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প দেশের সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করবে এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।