অযৌক্তিক ও আইনবহির্ভূত নানা দাবি আদায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে দেশের বিদ্যুৎ খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যুতের মতো একটি জরুরি সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় হুমকিতে পড়েছে সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) কোটি কোটি গ্রাহক।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শতভাগ গ্রাহককে মানসম্মত বিদ্যুৎসেবা দেওয়া এমনিতেই বড় চ্যালেঞ্জ। তার ওপর জরুরি সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা শত শত পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনের পর দিন আন্দোলনে যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ খাত কার্যত ঝুঁকিতে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড অধ্যাদেশ ১৯৯৭ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন ২০১৩ অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো আরইবি কর্তৃক সৃষ্ট, নিবন্ধিত ও অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠান। সরকারি নীতিমালায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের সুযোগ থাকলেও পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেআইনিভাবে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চাকরি নিয়মিত করার প্রলোভন দেখিয়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে আন্দোলনে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করার দাবিতে সরকারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এ ধরনের একীভূতকরণ বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরইবির পরিচালক (প্রশাসন) ও পবিস মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনা পরিচালন (কেন্দ্রীয় অঞ্চল) মো. হালিমুজ্জামান বলেন, বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবা বিঘ্নিত করে পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের কারণে এ খাতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। গ্রাহকরা সময়মতো সেবা না পেলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর পড়ে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আরইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনায় পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিজেদের মতো করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি দিতে পারে। আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দিক থেকেও তারা তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, পবিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো অবস্থাতেই কঠোর আন্দোলনে যাওয়া উচিত নয়। মানুষকে কষ্ট দিয়ে ও জিম্মি করে আন্দোলন করা সম্পূর্ণ অন্যায়। তাদের কোনো সমস্যা থাকলে প্রশাসনিক বা আইনি পথে সমাধান করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সেবাকে আন্দোলনের হাতিয়ার বানালে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কসমিক ডেস্ক