বনবিভাগের অভিযানে হরিণ চোর হানিফা জেলে, স্ত্রী তালাক নিলেন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বনবিভাগের অভিযানে হরিণ চোর হানিফা জেলে, স্ত্রী তালাক নিলেন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 7, 2026 ইং
বনবিভাগের অভিযানে হরিণ চোর হানিফা জেলে, স্ত্রী তালাক নিলেন ছবির ক্যাপশন:

বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হানিফা মিয়া (৪৫) বনের হরিণ ধরাকে জীবনের শখ মনে করতেন। কিন্তু সেই শখের দায়ে তিনি শেষমেষ জেলে যান এবং নিজের পরিবারকেও হারান। এই ঘটনা উপজেলা ও আশপাশের এলাকায় এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

হানিফা মিয়ার পেশা ছিল বনের হরিণ চুরি করে লোকচক্ষুর আড়ালে মাংস বিক্রি করা। তার এই কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বিপাকে ছিলেন শ্যালক মো. জহিরুল ইসলাম, যিনি পাথরঘাটা বনবিভাগের অফিসের মালি। বনবিভাগের দফতরের দায়িত্বে থাকা শ্যালক ও হানিফার অপরাধী কার্যকলাপের মাঝে পারিবারিক ‘চোর-পুলিশ’ খেলার অবস্থা তৈরি হয়। হানিফার স্ত্রী শাহিনুর বেগম বারবার স্বামীকে বারণ করলেও তিনি নাছোড়বান্দা ছিলেন। হানিফার যুক্তি ছিল, “বনের হরিণ তো কারো পোষ্য নয়।”

গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুটি ফুটফুটে হরিণসহ কোস্টগার্ড ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানে হানিফা হাতেনাতে ধরা পড়েন। মামলার পর পাথরঘাটার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। অপরাধ না মানার কারণে আরও তিন মাসের জেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলবন্দি অবস্থায় হানিফা তার শিকারি জীবন ও পরবর্তীতে পরিবারের উপর প্রভাব বিবেচনা করছেন। হানিফার স্ত্রী শাহিনুর বেগম দাম্পত্য জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হাজির হন কাজি অফিসে এবং স্বামীর অপরাধ ও ভাইয়ের অফিসের সামনে লজ্জায় দীর্ঘ দাম্পত্যের ইতি টেনে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন। তালাকের অনুলিপি বর্তমানে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদে জমা পড়েছে।

হানিফা মিয়া সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। পাথরঘাটার চায়ের দোকানগুলোতে এখন রসিকতা চলছে যে, হানিফা বনের হরিণ ধরতে গিয়ে নিজের সংসার হারিয়েছেন। শিকার করা হরিণ আদালতের আদেশে মাটি চাপা হলেও হানিফার সংসার আর আগের জায়গায় ফিরবে না।

হানিফার শ্যালক ও বনবিভাগের মালি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “ভগ্নিপতি হানিফার হরিণ চুরির কারণে সবসময় আমি হীনম্মন্যতায় ভুগতাম।” পাথরঘাটার পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক শফিউল ইসলাম খোকন বলেন, “যেদিন হরিণ ধরা পড়ে, সেই দিনটি ছিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দিবস। খুব কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু হানিফার সাহসিকতায় আমি আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছি। স্যালুট শাহিনুর বেগমকে।”

বর্তমানে হানিফা জেলে বসে সাধারণ ডাল-ভাত খাচ্ছেন। হয়তো ভাবছেন, হরিণের মাংসের চেয়ে শাশুড়ির হাতে রান্না করা সাধারণ খাবারই ঢের ভালো ছিল। এই ঘটনাটি স্থানীয়দের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত শখ ও অসতর্কতার কারণে জীবনের বড় ধাপের পরিবর্তন ঘটে।

এই ঘটনায় বোঝা যায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। হরিণ শিকার ও বন আইন লঙ্ঘন শুধু কারাদণ্ডের কারণ নয়, পরিবার ও সামাজিক জীবনের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। হানিফা মিয়ার কাণ্ড স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করেছে যে, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও আইনের সম্মান একান্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভোটকেন্দ্রের বাইরে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ মামুনুল হকের

ভোটকেন্দ্রের বাইরে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ মামুনুল হকের