ভারতে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio ও তার স্ত্রী জিনেট রুবিওর আগ্রা সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরকালে তারা ভারতের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা Taj Mahal পরিদর্শন করেন এবং ঐতিহাসিক ডায়ানা বেঞ্চে বসে একটি ছবি তোলেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ছবিটি প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। ইরানের পক্ষ থেকে এ সফর এবং ছবিকে ঘিরে সমালোচনামূলক মন্তব্য করা হয়।
হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়, তাজমহলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকলে এমন স্থানে ছবি তোলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাদের বক্তব্যে আরও বলা হয়, এই স্থাপত্য শুধু একটি প্রেমের স্মৃতিস্তম্ভই নয়, বরং পারস্য ও ভারতীয় শিল্প-ঐতিহ্যের এক অনন্য মিশ্রণ।
ইরানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, তাজমহলের নকশা ও নির্মাণে পারসিক স্থাপত্যশৈলীর গভীর প্রভাব রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গম্বুজ নির্মাণশৈলী, বাগান বিন্যাস এবং জ্যামিতিক নকশার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া স্থাপত্যে ব্যবহৃত ক্যালিগ্রাফি ও অলংকরণশৈলীতেও পারসিক শিল্পীদের অবদান রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তাজমহল সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা চলতে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘিরে কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রায়ই রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। ফলে একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক সফরও কখনো কখনো বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার রূপ নেয়।
উল্লেখ্য, তাজমহল নির্মিত হয় ১৭শ শতকে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে। এটি বর্তমানে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য এবং বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
কসমিক ডেস্ক