যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক জাহাজ এই রুট ব্যবহার করতে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
তবুও সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপদে প্রণালি পার হয়ে গন্তব্যের দিকে যাত্রা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সাই ভিক্টোরিয়াস’। এই ট্যাংকারটি চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ইরাক থেকে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে। পরে ৩০ মে এটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বর্তমানে মালয়েশিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আরেকটি তেলবাহী জাহাজ ‘এসটিআই এলিসিস’ ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কুয়েতের তেল পরিবহনে যুক্ত ছিল। জাহাজটি ২৯ মে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে পার হয়। তবে এটি বর্তমানে কোন বন্দরের দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ‘ম্যারিগোল্ড’ নামের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারও আলোচনায় এসেছে। জাহাজটি ৩ মে প্রণালিতে প্রবেশের সময় তার স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ করে দেয়। পরে ২৪ ও ২৫ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস দ্বীপে অবস্থান করে গ্যাসের চালান সংগ্রহ করে সফলভাবে যাত্রা সম্পন্ন করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘আল হামরা’, ‘আল আরিশ’, ‘আল খুওয়াইর’ এবং ‘আল মাররৌনা’ নামের চারটি খালি এলএনজি ট্যাংকারও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে। জাহাজগুলো ভারত ও শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী জলসীমা থেকে যাত্রা শুরু করে প্রণালির পূর্ব প্রবেশমুখে এসে অপেক্ষা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব জাহাজের চলাচল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সীমিত হলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পরিবহন কার্যক্রম চালু রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে, কারণ এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত।
তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। তাই জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ও আশাবাদের দোলাচল দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে ঝুঁকির মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, বরং কঠোর সতর্কতার মধ্য দিয়ে সীমিতভাবে তা অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক