পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির পাশাপাশি ঈদ শেষে রাজধানী ও বিভিন্ন শহরে ফেরার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় ঈদ পরবর্তী ফিরতি যাত্রার জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আগামী শুক্রবার (১৩ মার্চ) থেকে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন থেকে যাত্রীরা আগামী ২৩ মার্চের ট্রেনযাত্রার টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বরাবরের মতো এবারও আন্তঃনগর ট্রেনের সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। ফলে কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে না। যাত্রীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, ১৩ মার্চ সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। একই দিন দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে।
ঈদ উপলক্ষে ট্রেনযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে একটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ঈদের আগের ও পরের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৩ মার্চের ট্রেনযাত্রার টিকিট বিক্রি হবে ১৩ মার্চ। পরবর্তী দিনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে টিকিট বিক্রি করা হবে। ২৪ মার্চের টিকিট ১৪ মার্চ, ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি হবে ১৯ মার্চ।
তবে ঈদের দিন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিটও রাখা হয়েছে। এই টিকিটগুলো যাত্রার দিন ট্রেনের প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এতে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণের প্রয়োজন হলে যাত্রীরা কিছুটা সুবিধা পাবেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট কেনার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন যাত্রী একবারই টিকিট কিনতে পারবেন এবং একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া অগ্রিম কেনা কোনো টিকিট ফেরত বা রিফান্ড করা হবে না। ফলে যাত্রীদের টিকিট কেনার সময় বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে যাওয়ার জন্য ট্রেন একটি জনপ্রিয় পরিবহন মাধ্যম। তাই যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম টিকিট বিক্রির উদ্যোগ নেয়।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়াও আরও স্বচ্ছ হবে।
কসমিক ডেস্ক