অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালে দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালে দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 19, 2026 ইং
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালে দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত ছবির ক্যাপশন:

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন চরাদি ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক মো. নসরুল আমিন গাজী। জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ এক আদেশে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চরাদি ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর বরিশালের একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক মো. নসরুল আমিন গাজীকে আসামি করা হয়।

মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পর্যালোচনা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মামলার বাদী এবং বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি এইচ এম সোহাগ এবং তার স্বাক্ষর ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক এবং তার সহযোগী সহকারী শিক্ষক ব্যাংক থেকে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা, যা নিয়মবহির্ভূতভাবে তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি জানার পর তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের নির্দেশনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রুমানা আফরোজ বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। সরকারি কৌঁসুলির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সিনিয়র সহকারী প্রধান শিক্ষক নীলিমা আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না।

এদিকে, সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া প্রধান শিক্ষক মো. আনিছুর রহমান হাওলাদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা যাতে স্বচ্ছ থাকে সে বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উচ্চপর্যায়ের ইইউ প্রতিনিধি দল আসছ

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উচ্চপর্যায়ের ইইউ প্রতিনিধি দল আসছ