ঈদের আগে বেতন পাননি ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী : সেলিম ভুঁইয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঈদের আগে বেতন পাননি ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী : সেলিম ভুঁইয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 8, 2026 ইং
ঈদের আগে বেতন পাননি ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী : সেলিম ভুঁইয়া ছবির ক্যাপশন: ঈদের আগে বেতন পাননি ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী : সেলিম ভুঁইয়া

ঈদুল আজহার আনন্দের মাঝেও দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে নেমে এসেছে চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তা। চলতি জুন মাসের ৮ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তারা মে মাসের বেতন-ভাতা পাননি। এতে তাদের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া। তিনি এই পরিস্থিতিকে বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য একটি ‘চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান।

সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদুল আজহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জুন মাসের ৮ তারিখ পার হয়ে গেলেও তাদের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষকদের ঈদের আগে বেতন না পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক পর্যায়ে বা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর কারণে শিক্ষকদের বেতন প্রদান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, এই বিলম্ব সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেও হতে পারে।

আলোচনায় তিনি অতীত সরকারের উদাহরণ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিক্ষকদের বেতন কাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শিক্ষকদের জন্য উৎসব ভাতা ও বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ঈদের আগে বেতন পরিশোধের নজির ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতির পরও সময়মতো বেতন না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন প্রতি মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে সংসদে আলোচনার সময় তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শিক্ষকদের কল্যাণে বড় অঙ্কের বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সংসদ অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি গ্রহণ করেন এবং আলোচনাটি সংসদে উপস্থাপন করেন।

শিক্ষক-কর্মচারীদের এই বেতন সংকটকে কেন্দ্র করে শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনা জটিলতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সংসদে বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে বাস্তব মাঠ পর্যায়ে এখনো কোনো সমাধান না আসায় শিক্ষক পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

শিক্ষকরা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হলে তাদের আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমেও স্বস্তি ফিরবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ডিজিটাল কমার্সে নতুন উদ্যোগ, পিকাবুর সঙ্গে এসিআই স্মার্ট টুল

ডিজিটাল কমার্সে নতুন উদ্যোগ, পিকাবুর সঙ্গে এসিআই স্মার্ট টুল