শরীয়তপুরে ককটেল তৈরির আস্তানা সন্দেহে অভিযান, বিপুল সরঞ্জাম জব্দ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

শরীয়তপুরে ককটেল তৈরির আস্তানা সন্দেহে অভিযান, বিপুল সরঞ্জাম জব্দ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 13, 2026 ইং
শরীয়তপুরে ককটেল তৈরির আস্তানা সন্দেহে অভিযান, বিপুল সরঞ্জাম জব্দ ছবির ক্যাপশন:
ad728

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি ও চরগোয়ালী ব্যাপারীকান্দি গ্রামে সংঘাতপ্রবণ পরিস্থিতির আশঙ্কায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ককটেলের সদৃশ ৪৫টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং কয়েকটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড এবং অ্যান্টি-টেররিজম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা যৌথভাবে এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন জানান, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাজিরার কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর তল্লাশি চালানো হলে বিভিন্ন স্থান থেকে ককটেলের সদৃশ বস্তু, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত আরও দুইজনকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। বর্তমানে একজন আহত ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একজন সোহান ব্যাপারী, যিনি চরগোয়ালী ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে এবং অপরজন নবীন হোসেন, রহিম সরদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর ককটেল তৈরিতে জড়িতরা সোহান ব্যাপারীর মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে সাতঘরিয়া কান্দি এলাকার একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আহতদের দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়।

বিস্ফোরণের ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকালে পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ বিস্ফোরিত বাড়িটি তল্লাশি চালায়। সে সময় ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ উপাদান উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত উপকরণ দিয়ে অন্তত ১০০টি ককটেল তৈরি করা সম্ভব ছিল।

পুলিশের দাবি, মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে সদ্য নির্মিত ওই বসতঘরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থকরা ককটেল তৈরি করছিলেন। বিস্ফোরণের ফলে টিনের চালা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তার তিন ভাইসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও প্রায় ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জেলা খাদ্য গুদানে ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান–চালের গরমিল, গোডাউন সিল

জেলা খাদ্য গুদানে ৫৫৬ মেট্রিক টন ধান–চালের গরমিল, গোডাউন সিল