চলন্ত বাসেই নৃশংসতা, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে থামছে না অপরাধ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চলন্ত বাসেই নৃশংসতা, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে থামছে না অপরাধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 17, 2026 ইং
চলন্ত বাসেই নৃশংসতা, ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে থামছে না অপরাধ ছবির ক্যাপশন:
ad728

ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক আবারও আতঙ্কের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও ডাকাতির সাম্প্রতিক ঘটনায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর তথ্য অনুযায়ী, সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে বাসে ওঠার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই একা হয়ে পড়েন ২৬ বছর বয়সী এক গৃহবধূ। বাসের চালকের দুই সহকারী আলতাফ ও সাগর পালাক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করেন। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় এবং চিৎকার করলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বাসচালকও তাঁকে ধর্ষণ করেন।

এরপর বাসটি চন্দ্রা, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে। রাতভর চলে ওই গৃহবধূর ওপর পাশবিক নির্যাতন। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আশপাশের কয়েকটি সড়কে চলাচলকারী সাভার পরিবহনের একটি বাসেই এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।

ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে এমন অপরাধ নতুন নয়। গত এক যুগে ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়ক, টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়ক এবং টাঙ্গাইল–জামালপুর–শেরপুর সড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর কিছু ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ আবারও ফিরে এসেছে।

পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু পূর্ব থেকে চন্দ্রা, টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ সড়কের রসুলপুর পর্যন্ত এবং মধুপুর থেকে জামালপুরমুখী সড়কের বড় অংশই নির্জন ও জনমানবশূন্য। এসব জায়গাকেই অপরাধীরা বেছে নেয়। বিভিন্ন জেলার দুষ্কৃতকারীরা টাঙ্গাইলের এই অঞ্চলগুলোকে নিরাপদ পালানোর পথ হিসেবে ব্যবহার করে।

এই মহাসড়কের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০২২ সালের ২ আগস্ট রাতে। কুষ্টিয়া থেকে চট্টগ্রামগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাস যাত্রীবেশী ডাকাতেরা নিয়ন্ত্রণে নেয়। অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের হাত-মুখ বেঁধে তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুরের রক্তিপাড়া এলাকায় বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ওই বাসের যাত্রী নাটোরের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, বাসে ওঠার পর যাত্রীবেশী ১০–১২ জন ডাকাত ঘুমন্ত যাত্রীদের জিম্মি করে ফেলে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সম্পূর্ণ অসহায় ছিলাম। তিন ঘণ্টা ধরে কী হচ্ছে, কিছুই করতে পারিনি।’

এ ছাড়া ২০১৭ সালে জাকিয়া সুলতানা রুপা হত্যাকাণ্ড, ২০০৬ সালে স্কুলশিক্ষক বাসন্তী মাংসাংয়ের মৃত্যুসহ একাধিক ঘটনা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ককে জাতীয়ভাবে কুখ্যাত করে তোলে।

পুলিশ প্রশাসন বলছে, সব ঘটনার তথ্য একই রকম নয়। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম জানান, অনেক ঘটনায় শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগ উঠলেও তদন্তে শ্লীলতাহানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অপরাধ যাই হোক, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক ও মহাসড়কে টহল বাড়ানো হয়েছে। অতীতের বেশির ভাগ ঘটনা জেলার বাইরে শুরু হয়ে টাঙ্গাইলের নিরিবিলি এলাকায় এসে সংঘটিত হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।’

এদিকে স্থানীয় অধিকারকর্মীরা বনাঞ্চলঘেরা সড়কগুলোতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি পুনর্বহাল ও টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে এই আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভিশন ট্রেডিং কেলেঙ্কারি: সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের চার্জশি

ভিশন ট্রেডিং কেলেঙ্কারি: সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ জনের চার্জশি