বিনিয়োগ স্থবিরতায় অর্থনীতি, নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিনিয়োগ স্থবিরতায় অর্থনীতি, নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
বিনিয়োগ স্থবিরতায় অর্থনীতি, নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিনিয়োগ বাড়ানো ও টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার বিষয়টি উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, বর্তমান বিনিয়োগ স্থবিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে অর্থনীতিতে বৈষম্য ও সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।

শনিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে সিপিডির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা সরাসরি সামাজিক বৈষম্য ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে যখন ন্যায্য সুযোগের অভাব তৈরি হয়, তখন একদিকে বৈষম্য গভীর হয়, অন্যদিকে জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনের পেছনেও এই অর্থনৈতিক বাস্তবতা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাকরির বাজারে সুযোগের সংকট, সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি—সব মিলিয়ে মানুষের জীবনে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মনে করেন, বিনিয়োগ ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে তিনি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ জনগোষ্ঠী। দেশের মানুষের গড় বয়স এখনো মাত্র ২৬ থেকে ২৭ বছর, যা অর্থনীতির জন্য বড় সুযোগ।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তরুণদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি। এই শক্তিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার সম্ভব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সিপিডি প্রত্যাশা করে, আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং সহিংসতামুক্ত। নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার রোধে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে মানার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশি ও বিদেশি ঋণের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিভিন্ন পর্যায়ের গবেষকেরাও উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আগামী সরকার গঠনে জনসমর্থন অপরিহার্য: তারেক রহমান

আগামী সরকার গঠনে জনসমর্থন অপরিহার্য: তারেক রহমান