ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরুর প্রায় চার বছর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা একই টেবিলে বসতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে, রাশিয়ার কর্মকর্তারা আবুধাবির আলোচনায় অংশ নেবেন। ক্রেমলিন ওই বৈঠককে ‘সব দিক থেকেই কার্যকর’ বলে বর্ণনা করলেও স্পষ্ট করেছে—ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিরোধের সমাধান ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়।
ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, মস্কোয় অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলো ছিল ‘গভীর, গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে পূর্বে সম্মত কাঠামো অনুযায়ী ভূখণ্ড ইস্যুর নিষ্পত্তি না হলে টেকসই সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া তাদের তথাকথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালিয়ে যাবে।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ অবসানের পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখনো ভূখণ্ডের প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার রাতে মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনজন মার্কিন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এর আগে স্টিভ উইটকফ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্মতিতে রাশিয়া ইউক্রেনকে ‘দৃঢ়’ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে রাজি হয়েছিল।
দাভোসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর জেলেনস্কি বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এখনো অমীমাংসিত। তার ভাষায়, “সবকিছুই ভূখণ্ডের প্রশ্নে আটকে আছে। এটি এখনো সমাধান হয়নি। সমঝোতার জন্য শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়াকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।”
আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় ইউক্রেন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। দলে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান কিরিলো বুদানোভ এবং ডেভিড আরাখামিয়া। দাভোসে তারা ইতোমধ্যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আবুধাবিতে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান আন্দ্রি হ্নাতভ।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউর প্রধান জেনারেল ইগর কোস্তিউকভ। একই সময়ে রাশিয়ার বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলাদাভাবে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আবুধাবির এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক যুদ্ধ অবসানের পথে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নাও আনতে পারে, তবে ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক