ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সালেহ উদ্দিন মাহমুদ (তুষার) এ বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, বাজারে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির জন্য নানা ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়—লিকুইড, ক্যাপসুল, ট্যাবলেট বা স্যাচেট। কার জন্য কোন ওষুধ ভালো কাজ করবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেটি উপসর্গ কমায়, সেটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা।
চিকিৎসকের মতে, রোজায় গ্যাস ও বদহজমের অন্যতম প্রধান কারণ হলো খাবারের ভুল ধরন ও ভুল অভ্যাস। অনেকেই ইফতার বা সেহরিতে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খান এবং এরপর কোনো শারীরিক নড়াচড়া না করেই শুয়ে পড়েন। এতে পাকস্থলীতে খাবার হজম হতে সময় লাগে এবং গ্যাসের চাপ বেড়ে যায়। একইভাবে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মশলাদার ও বাইরের খাবার রোজায় পাকস্থলীর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত ঝাল বা ভারী খাবার গ্যাস ও বুক জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবারের পরিবর্তে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিলে বদহজমের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
গ্যাস বা বুক জ্বালাপোড়া হলে সব সময় ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কিছু ঘরোয়া উপায়ও কাজে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে চিকিৎসক জানান, আধা চা-চামচ বেকিং সোডা এক গ্লাস পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে অনেক সময় বুক জ্বালাপোড়া ও অ্যাসিডিটির চাপ কমে আসে। এ ছাড়া আদা চা পান করা বা সামান্য আদা চিবানোও উপকারী হতে পারে।
খাওয়ার পর কিছু সময় চুইংগাম চিবালে লালা নিঃসরণ বাড়ে, যা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রতিবার খাবারের পর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি পাকস্থলীর অ্যাসিড পাতলা করতে সহায়তা করে এবং গ্যাসের সমস্যা কমায়।
চিকিৎসকের মতে, পানি অনেকটাই সার্বিক স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম সহজ উপাদান। ইফতার ও সেহরির পর যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা যায়, তাহলে রোজার সময় অ্যাসিডিটি ও বদহজমের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সবশেষে তিনি বলেন, রোজায় গ্যাস বা বুক জ্বালাপোড়া এড়াতে হলে খাবারে সংযম, ভাজাপোড়া পরিহার, হালকা হাঁটা বা নড়াচড়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান—এই বিষয়গুলো মেনে চলা জরুরি। এসব অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ওষুধ ছাড়াই রোজার সময় সুস্থ থাকা সম্ভব এবং পরবর্তী রোজাগুলো অনেক বেশি স্বস্তিতে কাটানো যাবে।