ইফতারের পর ঝিমুনি কাটাতে কার্যকর ৫ উপায় The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইফতারের পর ঝিমুনি কাটাতে কার্যকর ৫ উপায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 22, 2026 ইং
ইফতারের পর ঝিমুনি কাটাতে কার্যকর ৫ উপায় ছবির ক্যাপশন:

রমজান মাসে সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় আসে এক ধরনের স্বস্তি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর টেবিলে সাজানো থাকে নানা মুখরোচক খাবার। অনেকেই মনে করেন, ইফতারে পেটপুরে খেলেই শরীর মুহূর্তেই শক্তি ফিরে পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ইফতারের কিছুক্ষণ পরেই শরীরে ভর করে ক্লান্তি, ঝিমুনি কিংবা ভারী ভাব।

এর প্রধান কারণ হলো দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার পর একসঙ্গে অনেক খাবার খাওয়া। সারাদিন খাবার না পাওয়ায় শরীর তখন ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করে। কিন্তু ইফতারে হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাবার পেলে তা হজম করতে শরীরকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। এই অতিরিক্ত কাজের চাপেই শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হয়। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।

পানিশূন্যতা দূর করুন
সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পানির ঘাটতি তৈরি হয়। ইফতারে সাধারণত তেলে ভাজা ও মসলাদার খাবার বেশি খাওয়া হয়, যা পানিশূন্যতা আরও বাড়াতে পারে। তাই ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফল, ফলের রস, শরবত কিংবা ডাবের পানি খেতে পারেন। এতে শরীর দ্রুত পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারে এবং ক্লান্তি কমে।

একসঙ্গে অনেক খাবার খাবেন না
ইফতারে সবচেয়ে বড় ভুল হলো একবারে অনেক খাবার খাওয়া। ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক, কিন্তু পেটকে হজমের জন্য সময় দিতে হবে। একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে হজমে সমস্যা হয় এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই অল্প অল্প করে খান, প্রয়োজনে কিছুক্ষণ পর পর খাবেন। এতে শরীর অতিরিক্ত চাপ অনুভব করবে না এবং হজমও ভালো হবে।

নামাজ পড়ে নিন
ইফতারের শুরুতে একটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি পান করে মাগরিবের নামাজ আদায় করা একটি ভালো অভ্যাস। এতে একদিকে নামাজ সময়মতো আদায় হয়, অন্যদিকে পেট খাবার গ্রহণের জন্য ধীরে ধীরে প্রস্তুত হয়। নামাজ শেষে ইফতারের বাকি খাবার খেলে হজম সহজ হয় এবং ক্লান্তি তুলনামূলক কম লাগে।

চা কিংবা কফি পরিমিতভাবে
অনেকে রোজার সময় চা বা কফি পান থেকে বিরত থাকেন। তবে ইফতারের পর ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ হালকা চা বা কফি পান করা যেতে পারে। এতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে কিছুটা সতেজ করে তোলে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চা বা কফি যেন খুব কড়া না হয় এবং অতিরিক্ত না পান করা হয়।

কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন
ইফতারের পরপরই শুয়ে পড়া বা দীর্ঘ সময় বসে থাকা ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। বরং ইফতারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে, হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং শরীরও তুলনামূলক চাঙ্গা থাকে। পাশাপাশি নিজেকে মানসিকভাবে ক্লান্ত ভাবা থেকে বিরত থাকুন—কারণ মন ভালো থাকলে শরীরও সাড়া দেয়।

সব মিলিয়ে, ইফতারের পর ক্লান্তি আসা খুব অস্বাভাবিক নয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে এই ক্লান্তি সহজেই দূর করা সম্ভব। এতে রোজার সময় শরীর থাকবে সতেজ ও কর্মক্ষম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বি