জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল প্রায় পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের কানুপুর হালির মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম লিমন হোসেন (২০)। তিনি ওই এলাকার বাবু হোসেনের ছেলে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, লিমন একটি মুরগির খামারে কাজ করতেন এবং প্রতিদিনের মতোই সেদিন সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিমন হোসেন কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। এ সময় চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন ওই পথে যাচ্ছিল।
হেডফোন লাগানো থাকায় সম্ভবত ট্রেনের শব্দ তিনি শুনতে পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ট্রেনটি খুব কাছে চলে আসার আগ পর্যন্ত তিনি বিপদের বিষয়টি টের পাননি।
এরপর দ্রুতগতিতে ছুটে আসা ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে দ্রুত সেখানে জড়ো হন। পরে তারা লিমনের পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রেললাইন থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, লিমন প্রতিদিনের মতোই কাজে যাওয়ার পথে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। হেডফোন ব্যবহার করার কারণে তিনি ট্রেনের শব্দ শুনতে পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আক্কেলপুর রেলস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কানুপুর হালির মোড় এলাকায় চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রেললাইনের পাশে বসবাসকারী অনেকেই জানিয়েছেন, অনেক সময় মানুষ রেললাইন ধরে হাঁটা বা চলাচল করে থাকেন। তবে কানে হেডফোন লাগিয়ে চলাচল করলে আশপাশের শব্দ শোনা কঠিন হয়ে পড়ে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রেললাইন ব্যবহার না করার এবং ট্রেন চলাচলের এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক