ঢাকার আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনার ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের ফলে জনতা ব্যাংকে থাকা তার দুটি সঞ্চয় হিসাব অবরুদ্ধ হয়েছে। হিসাব দুটির প্রত্যেকটিতে ১০ লাখ টাকা জমা থাকায় মোট ২০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদেশটি দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, লুৎফুল তাহমিনা ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯১ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অপরাধে সহায়তা করেছেন।
অবৈধ সম্পদের অংশ হিসেবে লুৎফুল তাহমিনা নিজ নামে এবং তার আংশিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪৩ কোটি ৭৭ লাখ ৭৪৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে জানা যায়, লুৎফুল তাহমিনা এবং তার স্বামী আদালতের নজর এড়িয়ে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। যদি এটি সফল হয়, তাহলে মামলার মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। তাই বিচার শেষে সরকারের পক্ষ থেকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তি নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংক হিসাব জব্দ করা প্রয়োজন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে লুৎফুল তাহমিনার ব্যাংক হিসাব থেকে কোনো ধরনের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। দুদক জানাচ্ছে, অবৈধ সম্পদ সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রমাণিত হলে পরবর্তী সময়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার উদ্দেশ্য হলো সরকারি সম্পদের দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। আদালতের এই অবরুদ্ধি নির্দেশ সরকারের ও দুদকের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে মামলা চলাকালীন সময়ে সম্পত্তি লোপ পায় না।
কসমিক ডেস্ক