গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অবস্থানকে “অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ম্যাক্রোঁ ফরাসি ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শুল্ক আরোপের হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার চেতনার পরিপন্থী।
ম্যাক্রোঁ স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই হুমকি বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়, তাহলে ইউরোপীয় দেশগুলো এককভাবে নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে এর জবাব দেবে। ইউরোপের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কৌশলগত অবস্থান রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই ইস্যুতে তিনি ইউরোপীয় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনা চালিয়ে যাবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রেখে যে কোনো বহিরাগত চাপ মোকাবিলা করা হবে—এমন বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের মত।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আগামী ১ জুন থেকে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। আরও বিতর্কিতভাবে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। অতীতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। নতুন করে এই ইস্যুকে বাণিজ্যিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্ক আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্য শুধু ফ্রান্সের অবস্থান নয়, বরং পুরো ইউরোপের কৌশলগত বার্তা বহন করে। ইউরোপ এখন আর একতরফা চাপ মেনে নেওয়ার অবস্থানে নেই—এমন ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে দিয়েছেন তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু কেবল একটি ভূখণ্ডগত প্রশ্ন নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি, বাণিজ্য ও শক্তির ভারসাম্যের প্রতীক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক