চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত এলাকায় আবারও সীমান্তসংক্রান্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার ভোরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আটকের ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হেন্তের বিল এলাকায়। বিএসএফের মাটিয়ারি ক্যাম্পের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশিকে আটক করে। পরে তাদের ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন—জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ফকিরপাড়া এলাকার সন্তোর ছেলে রকো হোসেন (৩০) এবং একই গ্রামের মসজিদপাড়া এলাকার খোদারবক্সের ছেলে রাশিদুল দুলি (৩৩)। তারা উভয়েই রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিয়মিতভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কাঁটাতার অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে মাদক সংগ্রহ করে তারা তা বাংলাদেশে নিয়ে আসতেন।
শনিবার ভোরে তারা একই উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে মাদক নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিএসএফের নজরে পড়লে তাদের আটক করা হয়। আটক হওয়ার সময় তারা ভারতের শূন্যরেখা অতিক্রম করে উল্লেখযোগ্য দূরত্ব ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, দুই বাংলাদেশি যুবক শূন্যরেখা অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ৫০ গজ ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। সেখান থেকে মাদক সংগ্রহের চেষ্টা চালানোর সময় বিএসএফ তাদের আটক করে।
তিনি আরও জানান, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে আটক সংক্রান্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে কিছু চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা সুযোগ বুঝে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মাদক আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ড সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানসংক্রান্ত ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের আটক করেছে বিএসএফ। প্রতিবারই দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ালে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কার্যক্রম কমে আসবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়ানো হলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন তারা।