ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ আইচা থানা যুবদলের কার্যালয়ে যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদল নেতা আফসার গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার দক্ষিণ আইচা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
আহত আফসার চরমানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি তরমুজ চাষি এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত যুবদল নেতা হিসেবে রয়েছেন। হামলায় আহত আফসারকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—同 ওয়ার্ডের তোফাজ্জল মাতব্বরের ছেলে মো. নূর নবী (৪৫), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহাজল সিকদারের ছেলে আ. শহিদ ভুট্ট (৫০), এবং সাইদের ছেলে মো. রবিউল (৩৫) সহ মোট ২০–৩০ জন।
থানার সূত্রে জানা গেছে, আফসারসহ কয়েকজন চাষী চর আইচা মৌজার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তরমুজ চাষ করেন। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা যুবদল অফিসে ঢুকে চাঁদা দাবি করলে চাষিরা অস্বীকার করেন।
অস্বীকারের পর হামলাকারীরা আফসারসহ অন্যান্য চাষি ও যুবদল নেতাদের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর চালান। পাশাপাশি অফিসে চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। থানা যুবদলের সভাপতি ইকবাল হাওলাদারের স্মার্টফোনও ভেঙে ফেলা হয়।
দক্ষিণ আইচা থানা যুবদল সভাপতি ইকবাল হাওলাদার জানান, রাতের ঘটনা হঠাৎ ঘটে এবং যুবলীগের নেতা নুরনবী মাতাব্বরের নেতৃত্বে ২০-৩০ জন অফিসে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযুক্ত মো. নূর নবী মাতাব্বর অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আফসার তাদের গালিগালাজ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা করা হয়েছে। এরপর তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির জানিয়েছেন, থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক