নির্বাচন সামনে রেখে ১৮ সীমান্ত পথে অস্ত্র ঢোকাচ্ছে অপরাধচক্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচন সামনে রেখে ১৮ সীমান্ত পথে অস্ত্র ঢোকাচ্ছে অপরাধচক্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 3, 2026 ইং
নির্বাচন সামনে রেখে ১৮ সীমান্ত পথে অস্ত্র ঢোকাচ্ছে অপরাধচক্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে দেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড ও সংগঠিত অপরাধচক্র। রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে খুন এবং চট্টগ্রামে নির্বাচনি প্রচারণার সময় গুলির ঘটনার মধ্য দিয়ে অপরাধী গ্যাংগুলোর শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এসব চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র।

এই অস্ত্রগুলো কীভাবে এত সহজে অপরাধীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে—তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকনাফ, বেনাপোল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও মেহেরপুরসহ অন্তত ১৮টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত আধুনিক অস্ত্র ও অ্যামুনিশন দেশে ঢুকছে

নদীপথ, ট্রানজিট রুট, নাফ নদের অগভীর এলাকা এবং ছোট দ্বীপাঞ্চল ব্যবহার করে গোপনে এসব অস্ত্র পাচার হচ্ছে। পাশাপাশি ‘জুলাই বিপ্লব’-এর সময় দেশের বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১ হাজার ৩৪০টি অস্ত্র নিখোঁজ রয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এসব অস্ত্রের বড় অংশই বর্তমানে রাজধানীর শীর্ষ গ্যাংগুলোর হাতে রয়েছে।

যদিও র‍্যাব গত চার মাসে ১৮৯টি এবং বিজিবি গত ৯ মাসে এক হাজার ২২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে, তবে থানালুটের নিখোঁজ অস্ত্র শনাক্ত ও উদ্ধার প্রক্রিয়ায় পুলিশের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৭৫টির বেশি গ্যাংয়ের হাতে বিদেশি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র রয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কিছু অপরাধচক্র রাজনৈতিক নেতা, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ বজায় রাখছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই চক্রগুলোর মূল লক্ষ্য হলো—নির্বাচনের আগে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং অপরাধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অদৃশ্য রাজনৈতিক-অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঢাকায় কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে আন্ডারওয়ার্ল্ড মাফিয়ারা—এমন তথ্যও উঠে এসেছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত জানানো হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচনি সুবিধা নিশ্চিত করতে কিছু রাজনৈতিক নেতা অপরাধচক্রকে ‘হায়ার্ড মাসল’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ভোটভীতি সৃষ্টি, বিরোধী প্রার্থীর প্রচারণায় হামলা, কেন্দ্র দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এসব গ্যাং ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধী চক্রের তৎপরতা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সহিংসতা, অস্ত্র ব্যবহার, চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্বে জড়ালে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিপিএল ম্যাচ স্থগিত, মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে ভাঙচুর

বিপিএল ম্যাচ স্থগিত, মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে ভাঙচুর