আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে উত্তরের পথে আবারও যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
বাসচালক ও পরিবহন শ্রমিকদের মতে, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরেই যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে আছে। সরু সড়ক, চলমান নির্মাণকাজ এবং টোল প্লাজার চাপ মিলিয়ে ঈদের সময় এ অংশে যানবাহনের গতি অনেকটাই কমে যায়।
উত্তরাঞ্চলগামী পরিবহন চালকরা জানান, ঈদের সময় দেশের অন্তত ২৩টি জেলার যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে এলেঙ্গা, গোলচত্বর, যমুনা সেতুর টোল প্লাজা এবং সেতু সংলগ্ন এলাকায় সামান্য জট তৈরি হলেই দ্রুত তা বড় যানজটে রূপ নেয়।
পরিবহন শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলও একটি বড় সমস্যা। ঈদের সময় এসব গাড়ি বিকল হয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আটকে গেলে যানজট দীর্ঘ হতে পারে। একটি বিকল গাড়ি সরাতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগলে সেই সময়ের মধ্যেই শত শত যানবাহন আটকে পড়ে।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও সেতু এলাকায় ভোগান্তি বাড়ায় বলে অভিযোগ করেছেন চালকেরা। সেতুতে যানবাহন ধীরগতিতে চলার সময় সামান্য ফাঁক পেলেই মোটরসাইকেল ঢুকে পড়ায় বড় যানবাহন চালকদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
মহাসড়কে চলমান উন্নয়নকাজের ধীরগতিও ভোগান্তির আরেক কারণ বলে দাবি করেছেন কিছু পরিবহন চালক। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত কাজ চললেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, ঈদের আগেই মহাসড়কের উভয় পাশে চার লেনের বেশিরভাগ অংশ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এতে যানজটের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে প্রশাসনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, রাবনা বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন এবং ঈদের পরও কয়েক দিন নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া সারা দেশে সম্ভাব্য যানজটের ২০৭টি স্থান চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ঈদকে সামনে রেখে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব স্থান নিয়ে প্রস্তুতি জোরদারের কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি বাড়ালে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক