নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের দায়ে ২০টি শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এ নির্দেশ দেন।
রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে এই নির্দেশ জারি করা হয়। রিটের আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, এসব শিল্পকারখানায় ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট টিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নেই। এ কারণে হাইকোর্ট বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্দেশে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য ১৮টি কারখানার মধ্যে রয়েছে—খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, এস আর এস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইয়িং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লা নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং ও হাজী রাসুল ডাইং।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ২০টি কারখানা ইটিপি ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণের প্রধান উৎস। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে সম্পূরক আবেদন করা হয়।
মনজিল মোরসেদ বলেন, “পরিবেশ আইন অনুসারে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। ইটিপি ছাড়া কোনো কারখানা পরিচালনা করা আইনভঙ্গ। তবে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প মালিকরা আইনের তোয়াক্কা না করে নদী দূষণ করছেন।”
এমতাবস্থায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়। এই রিটের প্রাথমিক শুনানিতে গত বছর ৬ মে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। শীতলক্ষ্যা দূষণ রোধে মনিটরিং কমিটি গঠন ও দায়ী শিল্পকারখানা চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আদালতে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহাম্মেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান।
কসমিক ডেস্ক