ইরানের সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি পুরোপুরি দেশটির জনগণের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
সোমবার ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহতদের দেখতে ইসরায়েলের ন্যাশনাল হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টারে যান তিনি। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে এ মন্তব্য করেন।
জনগণের ওপর নির্ভর করছে সরকারপতন
নেতানিয়াহু বলেন,
“আমাদের আকাঙ্ক্ষা হলো ইরানের সাধারণ জনগণকে স্বৈরাচারের জোয়াল ছুড়ে ফেলতে উৎসাহিত করা। তবে সরকারপতনের মূল কাজটি পুরোপুরি ইরানের জনগণের ওপর নির্ভর করছে।”
তিনি বলেন, ইসরায়েল সরাসরি কোনো সরকার পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে না, বরং ইরানের জনগণকে সেই পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।
ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন,
“গত ১০ দিনে আমরা ইরানের ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকারের হাড় ভেঙে দিয়েছি এবং এখনও আমাদের বাহু প্রসারিত রয়েছে।”
তার মতে, যদি ইরানের জনগণ সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়, তবে সেই পরিবর্তনে ইসরায়েলও ভূমিকা রেখেছে বলে বিবেচিত হবে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রশ্ন
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে তা ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা স্বস্তি বয়ে আনবে।
তিনি বলেন,
“এটি হবে ইসরায়েলের জন্য একটি অসাধারণ পরিবর্তন। এতে আমাদের একটি স্থায়ী নিরাপত্তা হুমকির অবসান ঘটবে।”
পরমাণু সংলাপ ব্যর্থ
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চলে।
তবে কোনো ধরনের সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
সামরিক অভিযান শুরু
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
হতাহতের সংখ্যা
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক