ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যেই দেশটিতে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা বিনামূল্যে চালু করা হয়েছে। ইরানি স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা একজন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রযুক্তিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স-এর নির্বাহী পরিচালক আহমদ আহমাদিয়ান জানান, ইরানে যেসব স্টারলিংক অ্যাকাউন্ট আগে নিষ্ক্রিয় ছিল, সেগুলো আবার সক্রিয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার থেকে এসব অ্যাকাউন্টের সাবস্ক্রিপশন ফি সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমদ আহমাদিয়ান বলেন,
‘এখন শুধু ডিভাইসটি প্লাগ ইন করে সংযোগ দিলেই ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে। স্যাটেলাইট টার্মিনাল এমন স্থানে রাখতে হবে, যেখান থেকে আকাশ পরিষ্কার দেখা যায়—তাহলেই সংযোগ কাজ শুরু করবে।’
এই পদক্ষেপ সামনে আসে এমন এক সময়, যখন চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের মধ্যে একটি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ফোনালাপে ইরানে স্টারলিংক ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে স্পেসএক্স বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত কয়েক দিন ধরে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে রেখেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বড় ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মধ্যেই দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ও দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তবে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইন্টারনেটের এই বিনামূল্যের স্যাটেলাইট সুবিধাকে আন্দোলনকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র অল্পসংখ্যক মানুষই বাস্তবে এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি ইরান সরকারের স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করার সক্ষমতা রয়েছে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।