জামালপুরের ইসলামপুরে বসতবাড়িতে ঢুকে ডাকাতি ও এক গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. সাহেব আলী (২৭) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাহেব আলী জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ডিগ্রীরচর এলাকার ইব্রাহীম শেখের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৮ জানুয়ারি রাতে ইসলামপুর উপজেলার এক গৃহবধূর বসতবাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ প্রবেশ করে। তারা বাড়ির লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ছয় লাখ ৭৪ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাতির সময় ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে সাহেব আলীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা জোরদার করা হয়।
র্যাব-১৪’র কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) মেজর লাবিব আহমেদ বলেন, “ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার আসামি সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে ইসলামপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামি পালানোর চেষ্টা করেননি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতি ও নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার কারণে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভও ছিল। তবে অবশেষে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
নারী নির্যাতন ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ইসলামপুরের বহুল আলোচিত ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও বিচার কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
কসমিক ডেস্ক