গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ১৫২ জন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য তথ্য কেন্দ্র জানায়, জুলাই মাসে গাজার বিভিন্ন গভর্নরেটে নিহত ১৫২ জনের মধ্যে ২১ জন শিশু, ১৪ জন নারী এবং চারজন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন। বেসামরিক জনগণের ওপর সংঘাতের প্রভাব বাড়তে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় চলমান সামরিক অভিযান এবং সংঘাতের সরাসরি প্রভাবে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাণহানি মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২২২ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে গাজার অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনসহ জরুরি সেবার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক