বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে একটি নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রবাসী ও ইহুদিবিদ্বেষ দমনবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জন্য শীর্ষ ১০ ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ ইনফ্লুয়েন্সারের তালিকা প্রকাশ করেছে।
হলোকাস্ট মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বক্তৃতা ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী ইহুদিবিদ্বেষ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
প্রকাশিত তালিকার ১০ জনের মধ্যে ছয়জন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, বাকিরা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার Dan Bilzerian। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন এবং বৈশ্বিক সংঘাতের জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জলবায়ু আন্দোলনকর্মী Greta Thunberg। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে “গণহত্যা” ও “অবরোধ” হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব ছড়াচ্ছেন।
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মার্কিন রক্ষণশীল সাংবাদিক Tucker Carlson। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম ও বৈশ্বিক নীতিতে ইহুদিদের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছেন মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতিবিদ Nick Fuentes, যিনি শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং হলোকাস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচিত।
এছাড়া তালিকায় মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব Candace Owens-এর নামও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইহুদিপন্থি গোষ্ঠী ও মিডিয়া নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছেন।
অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন ড্যানিশ চিকিৎসক আনাস্তাসিয়া মারিয়া লুপিস, মার্কিন কৌতুক অভিনেতা বাসেম ইউসুফ, ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান, মার্কিন ইসলামিক স্কলার ওমর সুলেমান এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইয়ান ক্যারল।
ইসরায়েলের প্রবাসী ও ইহুদিবিদ্বেষ দমনবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি বলেন, “এই প্রতিবেদনটি বৈশ্বিকভাবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের একটি বড় প্রবণতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমালোচনার আড়ালে অনেক সময় ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের প্রবণতা শনাক্ত করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের তালিকা প্রকাশ আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, সমালোচনা এবং বিদ্বেষের সীমারেখা নির্ধারণ করা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যম, রাজনীতি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।