তিন দিনের টানটান উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আমা কফি ক্যাম্পাস ফুটসাল ২০২৬। ৩০ জুন রাতে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফাইনালে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি এই আয়োজনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ঢাকার ৩২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা, দলগত সমন্বয় এবং ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল কেবল একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তরুণরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পাবে।
২৮ জুন শুরু হওয়া নকআউট পর্বে মোট ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ম্যাচেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দ্রুতগতির আক্রমণ এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাস। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশনের পর্দায়ও ফুটসালপ্রেমীরা উপভোগ করেছেন প্রতিটি মুহূর্ত। ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকরাও এই ক্রীড়া উৎসবের অংশ হওয়ার সুযোগ পান।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হাতে পাঁচ লাখ টাকার প্রাইজমানি ও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। রানার্সআপ শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি অর্জন করে দুই লাখ টাকার পুরস্কার।
টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়। সেরা গোলরক্ষক, সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়—এই তিনটি বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় নিজ নিজ বিভাগে সেরা পারফর্মারদের হাতে। এসব স্বীকৃতি প্রতিযোগিতার মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছে।
আয়োজনটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মামুন, বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম এবং ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
খেলা শুরুর আগে দর্শকদের জন্য ছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা, ফ্ল্যাশ মব এবং লাইভ সংগীতের আয়োজন। পুরো স্টেডিয়াম উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ক্যাম্পাস ট্যুর, জার্সি উন্মোচন এবং ট্রফি ট্যুরের মতো নানা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। সমাপনী আয়োজনের মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা সফলভাবে পূর্ণতা পায়।
আয়োজকদের মতে, এই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক, প্রতিযোগিতামূলক এবং উদ্দীপনাময় ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়, শত শত খেলোয়াড় এবং হাজারো সমর্থকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, উপযুক্ত সুযোগ ও পরিবেশ পেলে দেশের তরুণরা ক্রীড়া ও নেতৃত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারে।
কসমিক ডেস্ক