চীনে জনসংখ্যাগত বড় পরিবর্তন, চীনে শিশুদের চেয়ে বেশি প্রবীণ জনসংখ্যা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চীনে জনসংখ্যাগত বড় পরিবর্তন, চীনে শিশুদের চেয়ে বেশি প্রবীণ জনসংখ্যা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
চীনে জনসংখ্যাগত বড় পরিবর্তন, চীনে শিশুদের চেয়ে বেশি প্রবীণ জনসংখ্যা ছবির ক্যাপশন: চীনে জনসংখ্যাগত বড় পরিবর্তন, চীনে শিশুদের চেয়ে বেশি প্রবীণ জনসংখ্যা

চীনে জনসংখ্যাগত কাঠামোয় একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৪৯ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে শিশুদের তুলনায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানা গেছে। এই পরিবর্তন দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা নীতি ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনের প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের হার দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশে। অন্যদিকে শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের হার ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবীণ জনগোষ্ঠী এখন শিশুদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

এই তথ্য চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (National Bureau of Statistics of China) পরিচালিত একটি “মিনি-সেন্সাস” বা ক্ষুদ্র আদমশুমারি থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রতি দশ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত জাতীয় আদমশুমারির মাঝামাঝি সময়ে এই জরিপ করা হয় এবং এতে দুই কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নেয়।

জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফুর মতে, এই পরিবর্তন চীনের পরিবারভিত্তিক প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চাপে ফেলবে। কারণ পরিবারের সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ায় প্রবীণদের দেখভালের দায়িত্ব সীমিত মানুষের ওপর পড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনও দেখা দেবে।

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, চীনের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীও ধীরে ধীরে কমছে। ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী মানুষের হার বর্তমানে ৬১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা এক দশক আগে ছিল ৬৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই পরিবর্তন শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া পরিবারগুলোর গড় আকারও কমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা গড়ে ২ দশমিক ৫২ জন, যেখানে ১০ বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩ দশমিক ১০ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সমাজে ছোট পরিবার এবং একক জীবনযাপনের প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

জনসংখ্যাবিদরা বলছেন, কম জন্মহার, বিবাহের হার কমে যাওয়া এবং সন্তান নেওয়ার অনীহা—সব মিলিয়ে এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং প্রবীণ নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

চীনের সরকার ইতোমধ্যে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটির জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানো হবে এবং জনসংখ্যার আকার ও জন্মহার একটি “মধ্যম মাত্রায়” ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে।

সরকার ৬০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী তুলনামূলক কর্মক্ষম প্রবীণদের অর্থনীতিতে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বয়সী অনেক মানুষ এখনও কর্মক্ষম এবং শ্রমবাজারে অবদান রাখতে সক্ষম।

এছাড়া সন্তান জন্মহার বাড়াতে স্থানীয় সরকারগুলোকে ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তান জন্মদান, লালন-পালন ও শিক্ষার খরচ কমানোর পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষদের কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চীন ইতোমধ্যে নবজাতক শিশুদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা এবং জন্মহার বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি কিছু শহর ও কর্মস্থলকে “সন্তানবান্ধব” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রভাবও ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির শ্রমশক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা ভবিষ্যতে এই প্রবণতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পেট্রোল পাম্পে তেলের সংকট: সংসদে প্রশ্ন তুললেন এমপি

পেট্রোল পাম্পে তেলের সংকট: সংসদে প্রশ্ন তুললেন এমপি