গাইবান্ধার সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইমরান সরকার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বাড়ি ফিরছিল বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি লিচুর বাগানের পাশ দিয়ে। এ সময় অভিযুক্ত ইমরান সরকার শিশুটিকে লিচু দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাগানের ভেতরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটির আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসে এবং তাকে উদ্ধার করে।
ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইমরান সরকারকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে সাহাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওইদিন রাতে পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা ইমরান সরকারকে গ্রেপ্তার দেখায়।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তকে প্রথমে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক ছিল। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্তকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে অভিযুক্তকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা শিশু নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এমন ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিশুটির পরিবার বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তার মানসিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
কসমিক ডেস্ক