উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন সেউতা (Ceuta) শহরে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেড়ে ৭২ জনে পৌঁছেছে। স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূল থেকে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের পর সর্বশেষ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের অনেকেই সাগর সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন, আর এ সময় ডুবে বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলেও গত দুই দিনে ৪৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন। সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেউতায় স্প্যানিশ সরকারের প্রতিনিধি মিগেল অ্যাঞ্জেল পেরেজ জানান, নিহতদের পাশাপাশি এক হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসী সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন। এছাড়া সীমান্তের বাঁধ ও নিরাপত্তা বেড়া টপকানোর সময় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়েও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মরক্কোর কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, মানবপাচারকারী চক্র এবং একটি স্প্যানিশ আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যাকে দায়ী করেছে। তবে মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে পাওয়া মৃত্যুর খবরগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে। ফলে দুই দেশের প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যায় পার্থক্য দেখা গেছে।
নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্পেন সরকার তারাঝাল সীমান্ত এলাকায় সমুদ্রে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করেছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
কসমিক ডেস্ক