গ্রিস সরকার আগামী বছরের শুরুতে ১৫ বছরের কম শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি কঠিন, কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিস এমন পদক্ষেপ গ্রহণকারী বিশ্বের প্রথম দেশগুলোর মধ্যে একটি। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও শিশুদের সুরক্ষার জন্য এই ধরনের নীতি নেওয়ার আহ্বান জানাবেন।
তিনি ভিডিও বার্তায় জানান, শিশুদের প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখাই উদ্দেশ্য নয়, বরং নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনের প্রতি আসক্তি মোকাবিলা এবং তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা মূল লক্ষ্য।
“বিজ্ঞান পরিষ্কারভাবে বলছে, যখন কোনো শিশু ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে থাকে, তখন তার মস্তিষ্ক যথেষ্ট বিশ্রাম পায় না। আমরা চাই শিশুদের মস্তিষ্ক সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বিকাশ হোক।”
অন্যান্য দেশের উদাহরণ
- অস্ট্রেলিয়া: ১৬ বছরের কম শিশুদের জন্য টিকটক, ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট ও অন্যান্য সামাজিক সাইটে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যর্থ হলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকি।
- ইন্দোনেশিয়া: ১৬ বছরের কম ব্যবহারকারীর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ, আইন না মানলে গুগল ও মেটাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
- অস্ট্রিয়া: দ্রুত ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের ঘোষণা।
- স্পেন ও ডেনমার্ক: ডিজিটাল সাবালকত্ব যুগ চালু করার পরিকল্পনা।
প্রভাব ও উদ্দেশ্য
গ্রিসের নতুন নীতির লক্ষ্য হলো:
- শিশুদের মানসিক বিকাশ রক্ষা করা
- অ্যাপ্লিকেশন আসক্তি কমানো
- স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে আনা
- সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নতি নিশ্চিত করা
প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস জানিয়েছেন, তারা সরাসরি শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সচেতন করার চেষ্টা করবেন। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলা হবে এবং তাদের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতা রক্ষিত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক