আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে এশীয় বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ সময় মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে এই পতনের পরও তেলের বর্তমান মূল্য চলমান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে। বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার আগে যে দামে তেল বিক্রি হচ্ছিল, তার তুলনায় বর্তমানে তেলের দাম এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামার পেছনে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বা উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা বাড়ে, যার ফলে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললেই বাজারে দাম কমতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য বাজারে এই পতনের অন্যতম কারণ। সোমবার তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তার এই বক্তব্য বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে। তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বড় বাজারে সূচক বেড়েছে।
জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই ২২৫ প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকও শক্তিশালী উত্থান দেখিয়েছে, যা ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এশিয়ার অনেক দেশই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো থেকে তেল আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে এসব দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়।
তেলের দাম কমে যাওয়ায় ওই চাপ কিছুটা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি কেমন থাকে, তার ওপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। যদি সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হয়, তবে তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হলে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক