বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নেমেছেন। টানা তিন দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ওপর জমে উঠছে বর্জ্যের স্তূপ। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে পচে যাচ্ছে আবর্জনা এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। নতুন বাজার, চৌমাথা, বটতলা, রূপাতলী এবং সদর রোডসহ একাধিক ব্যস্ত এলাকায় রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লার স্তূপ নগরবাসীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঈদ সামনে রেখে নগরীতে কেনাকাটায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। এর মাঝেই সড়কের পাশে পড়ে থাকা আবর্জনা মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে অসুবিধা তৈরি করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
নগরবাসীর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে ঈদের আগেই পুরো নগরী ময়লার স্তুপে পরিণত হতে পারে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি পরিবেশগত সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এই বর্জ্য অপসারণের কাজে ২৩টি ট্রাক ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ৭০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন।
তবে গত মঙ্গলবার থেকে এসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে ধর্মঘটে যাওয়ায় বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তিন দিনের মধ্যেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমে গেছে।
আন্দোলনরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একজন কালু খান বলেন, তারা মাসে ৩০ দিন কাজ করলেও বেতন পান মাত্র ২২ দিনের। এর পাশাপাশি আগে উৎসব ভাতা এবং ইফতারের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলেও এবার শুধু নিয়মিত বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তিনি জানান, কোনো ধরনের বোনাস বা উৎসব ভাতার ঘোষণা না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার মতে, এত কম টাকায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
কালু খান বলেন, বোনাস ছাড়া ঈদ উদযাপন তো দূরের কথা, পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তাদের দাবি, ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করার একটি গেজেট জারি করা হয়েছিল।
তবে সেই গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা কোনো উৎসব ভাতা পাবেন না। এই বিধানকে কেন্দ্র করেই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের দৈনিক ৭৫০ টাকা হারে মজুরি দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের বেতন প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি জানান, শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাতা ও কিছু সুবিধার দাবি করছেন, যা বর্তমান কাঠামোর মধ্যে দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আলোচনার জন্য ডাকা হলেও তারা এখনো বৈঠকে বসতে রাজি হননি। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কসমিক ডেস্ক