গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের ভাষ্য, শুধুমাত্র কোনো রাজনৈতিক দলের চিঠির ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্পিকারের রেফারেন্স বা আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া গেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের চিঠির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিতর্কিত হতে পারে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠালে বিরোধ বা ডিসপিউট পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে শুনানি শেষে কমিশন আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কোনো দল থেকে বহিষ্কার করা হলে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই। তবে কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সংবিধান অনুযায়ী বিবেচিত হয়। সে ক্ষেত্রে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স এলে কমিশন প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, শুধু দলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের অযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্পিকারের রেফারেন্সের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তাই কমিশন স্পিকারের আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।
কসমিক ডেস্ক