নির্বাচনের উত্তেজনার ঠিক পরের দিনই আশুলিয়ায় যাত্রীবাহী পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাইপাইল–আবদুল্লাহপুর সড়কে চলাচলকারী কয়েকটি বাস থেকে জোরপূর্বক চাঁদা নেওয়ার সময় স্থানীয় জনতার বাধার মুখে পড়েন অভিযুক্তরা। উত্তেজিত জনতা এক ব্যক্তিকে ধরে গণধোলাই দেয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন যুবক নিজেদের একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সড়কে চলাচলকারী বাস থামিয়ে চাঁদা দাবি করেন। বিশেষ করে অভিযোগ ওঠে, তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কর্মী পরিচয় দিয়েছিল। সোহাগ পরিবহনের একটি বাস থেকে টাকা নেওয়ার সময় চালক ও হেলপাররা প্রতিবাদ করলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে বাসের যাত্রীরাও নেমে এসে অভিযুক্তদের ধাওয়া দেন। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও একজনকে ধরে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কোনো ব্যক্তি আটক করা সম্ভব হয়নি। আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, “বাইপাইল–আবদুল্লাহপুর সড়কে চাঁদাবাজির খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
ওসি আরও জানান, এলাকার বিএনপি নেতারাও এই ব্যক্তিদের চেনে না এবং তারা দলের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তবে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ প্রশাসনের তৎপরতা বাড়িয়েছে। পুলিশ ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
স্থানীয় বাসচালক ও যাত্রীরা জানান, সাধারণত নির্বাচনের সময় বিভিন্ন এলাকায় এমন চাঁদাবাজি ও সড়কে বাধা দেওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। তবে এবারের ঘটনার ক্ষেত্রে জনতার তৎপরতা ও প্রতিক্রিয়া নজর কাড়ছে। যাত্রীরা সক্রিয়ভাবে অভিযুক্তদের আটকাতে এগিয়ে এসেছেন, যার কারণে বড় ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে আগামী দিনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া আশুলিয়া এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী পরিবহন নিরাপত্তা ও সাধারণ শান্তি বজায় রাখার জন্য পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে।
মোটের উপর, আশুলিয়ায় বাসে চাঁদাবাজি করার সময় জনতার তৎপরতা দেখিয়েছে যে, স্থানীয় মানুষ সহিংসতা ও অবৈধ দাবির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। পুলিশ প্রশাসনও ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিহত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।