দেশে হামের (Measles) টিকাদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মাইকিং করে জনগণকে খুঁজে খুঁজে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্যখাতের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে টিকা কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। এর ফলে টিকাদান কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুকে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এজন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন, যা পোর্টারদের বেতন ও অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময়ে পোর্টাররা তাদের প্রাপ্য বেতন না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট ছিলেন। এ বিষয়টি সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনা, সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অনুমোদনের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ২৬ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ১ হাজার ৩২৬ জন পোর্টারের জন্য ছয় মাসের বেতন হিসেবে ১২ কোটি টাকার বেশি ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রতিজন পোর্টার গড়ে প্রায় ৯০ হাজার টাকা করে পাবেন। বাকি অর্থ ঈদের পর পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সংশ্লিষ্ট অর্থ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে এবং আগামীকাল থেকেই পোর্টাররা তাদের পেমেন্ট পেতে শুরু করবেন। ভবিষ্যতে ২০২৬ সাল থেকে তাদের বেতন নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকাদান কর্মসূচি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এই ধরনের জাতীয় কর্মসূচি বড় ভূমিকা রাখে।
সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের বিস্তৃত টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রোগের বিস্তার কমবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকবে এবং যেসব শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়েছে তাদের দ্রুত আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
কসমিক ডেস্ক