পটুয়াখালী শহরের একটি রেস্টুরেন্টের আবাসিক কক্ষ থেকে মো. সায়েম (২০) নামে এক রেস্টুরেন্টকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকাল ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ সবুজবাগ এলাকার পৌর পার্ক রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সায়েম পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই রেস্টুরেন্টে শেফ (বাবুর্চি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং রেস্টুরেন্টের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক কক্ষেই বসবাস করতেন।
পুলিশ ও রেস্টুরেন্ট সূত্রে জানা যায়, সকালে সহকর্মীরা আবাসিক কক্ষে সায়েমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কিশোর রায় জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু হিসেবে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সায়েম রেস্টুরেন্টে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন এবং স্টাফ কক্ষেই থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ বলছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, রেস্টুরেন্ট কর্মীর এ মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে এবং পুলিশের তদন্তে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
কসমিক ডেস্ক