দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে পবিত্র ঈদুল আজহার বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে এই ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়। দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিরা এ জামাতে অংশ নেন।
গোর-এ শহীদ ময়দান, যার আয়তন ২১.৯৯ একর, ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাতের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ২০১৭ সাল থেকে আধুনিক অবকাঠামো ও বৃহৎ পরিসরে এখানে নিয়মিতভাবে ঈদের জামাত আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের জামাতে সকাল ৬টা থেকেই মুসল্লিরা মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন।
নির্ধারিত সময়ে সকাল সাড়ে ৮টায় নামাজ শুরু হয়। ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদের এই বৃহৎ জামাতে অংশ নেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের জনগণ।
তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ঝড়-বৃষ্টির কারণে স্থানীয় অনেক মসজিদ ও পাড়া-মহল্লার মাঠে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় আগের বছরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কিছুটা কম ছিল বলে জানা গেছে। এরপরও দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে মাঠটি পূর্ণ হয়ে ওঠে।
নীলফামারী জেলা থেকে আসা রংপুরের একটি হিমাগারের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার (৬৩) জানান, তিনি এ মাঠে প্রায় ১০ বার ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের বৃহৎ জামাতে অংশ নেওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, এবারের ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে ভালো ছিল এবং শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠে পর্যাপ্ত শৌচাগার, অজুখানা এবং মেডিক্যাল টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নির্বিঘ্নে জামাত সম্পন্ন হয়। প্রশাসনও পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
কসমিক ডেস্ক