খতিয়ান (পর্চা) ও মৌজা ম্যাপ সেবার ফি পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহর সই করা পরিপত্রে নতুন ফি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভূমি রেকর্ড ও মৌজা ম্যাপ সেবাকে আরও টেকসই, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে এই সেবামূল্য নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের খতিয়ানের (পর্চা) সার্টিফাইড কপি বা অনলাইন কপির জন্য গ্রাহককে মোট ১২০ টাকা ব্যয় করতে হবে। এর মধ্যে সরকারি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা এবং সেবা ফি ২০ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত ফি পরিশোধের পর গ্রাহকরা কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
অন্যদিকে মৌজা ম্যাপের ক্ষেত্রেও ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন থেকে যেকোনো মৌজা ম্যাপের প্রতি শিটের জন্য সরকারি ফি ৫২০ টাকা এবং সেবা ফি ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মোট ৫৪৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে। পূর্বের হার থেকে এটি পরিবর্তিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। এনালগ বা নগদ লেনদেনের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হয়রানি কমানো এবং দ্রুত সেবা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভূমি সংক্রান্ত সেবায় ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রম কয়েক বছর ধরে চলমান রয়েছে। অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হলে সেবাগ্রহীতাদের সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব আদায়েও স্বচ্ছতা বাড়বে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ফলে নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী সেবা গ্রহণ করতে হবে আবেদনকারীদের।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন।
সরকারের এই পদক্ষেপ ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবেদন ও ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সেবার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক