কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৫ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৫

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 5, 2026 ইং
কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৮৫ ছবির ক্যাপশন: কুমিল্লায় এইচআইভি সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে জেলায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ৩৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার ৫৪৬ জন রোগী কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কুমিল্লায় এইচআইভি সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে জেলায় এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৫ জেলার ৫৪৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে শুধু কুমিল্লা জেলারই ৩৮৫ জন রোগী রয়েছেন। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

কুমেকের এইচআইভি এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মে মাসেই তিনজন, এপ্রিল মাসে একজন, মার্চে একজন এবং জানুয়ারিতে দুজন এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বয়সভিত্তিক ভিন্নতা থাকলেও বেশিরভাগই পুরুষ রোগী ছিলেন।

চিকিৎসা কেন্দ্রের কাউন্সিলর কাম এডমিন মো. আরিফ হাসান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের ধরনে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে যেখানে রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণ বেশি দেখা যেত, এখন যৌন সংক্রমণই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে পুরুষ থেকে পুরুষে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৬৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২৭৮ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জন টিবি রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। একই সময়ে ৪৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছরই সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে শনাক্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল এবং ২০২৫–২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই নতুন করে ৩৭ জন শনাক্ত হয়েছেন, যা চলমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বর্তমানে কুমিল্লা ছাড়াও নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ মোট ১৫ জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু কুমিল্লার নয়, বরং আঞ্চলিক পর্যায়ের একটি জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আক্রান্তদের সামাজিক প্রোফাইল পরিবর্তন। আগে যেখানে প্রধানত রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণ হতো, এখন বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। বিবাহিত জীবনের মাধ্যমে সংক্রমণ, বিদেশফেরত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যেও সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত সকল রোগীকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ আচরণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক ট্যাবু ভেঙে আক্রান্তদের চিকিৎসার আওতায় আনা এবং নিয়মিত কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতি কুমিল্লাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য নজরদারির অঞ্চলে পরিণত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তৃণমূল থেকেই ফুটবলের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে : স্পিকার

তৃণমূল থেকেই ফুটবলের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে : স্পিকার