ডিমের বাজার ১৮ কোটি থেকে ৬ কোটিতে, চাপে খামারি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিমের বাজার ১৮ কোটি থেকে ৬ কোটিতে, চাপে খামারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
ডিমের বাজার ১৮ কোটি থেকে ৬ কোটিতে, চাপে খামারি ছবির ক্যাপশন:
ad728

একসময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ও পাশের ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছিল পোলট্রি শিল্পের জন্য পরিচিত একটি বড় কেন্দ্র। এই শিল্পের ওপর ভর করেই এলাকার হাজারো পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিল। তবে কাঁচামালের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে এই অঞ্চলের পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে।

ভোলাব–ডাঙ্গা পোলট্রি সমিতির তথ্য অনুযায়ী, একসময় শুধু ডিমের বাজার থেকেই বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকার লেনদেন হতো। বর্তমানে সেই বাজার নেমে এসেছে ছয় কোটি টাকায়। ব্যবসায়িক চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি খামার বন্ধ করে দিয়েছেন, কেউ কেউ আবার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন।

সমিতির হিসাব বলছে, ছয় মাস আগেও ভোলাব এলাকায় দেড় শতাধিক পোলট্রি খামার চালু ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৩০-এর কোঠায়। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই ধরনের কাঁচামালের দাম ১০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং আট ধরনের কাঁচামালের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি হারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালু রাখতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে খামারিদের। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে, ফলে গ্রাম থেকে শহরে মুরগি ও ডিম সরবরাহে সময় ও খরচ—দুটোই বেড়েছে।

কী বলছেন খামারিরা

ভোলাব এলাকার পোলট্রি ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, তাঁর খামারে একসময় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ডিম উৎপাদিত হতো। বর্তমানে তা কমে দুই হাজারে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, “ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী লাভ নিশ্চিত নয়। এর ওপর সঠিক সময়ে পণ্য বিক্রি হবে কি না, সেটাও অনিশ্চিত। এই ব্যবসায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।”

খামারিরা জানান, বার্ড ফ্লু, এরপর করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা সামলানোর আগেই রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। আমদানিনির্ভর হওয়ায় পোলট্রি খাবারের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে ডিম ও মুরগির খুচরা দামে। এতে ক্রেতারা পোলট্রি পণ্য কেনা কমিয়ে দিলে খামারিরা বাধ্য হয়ে উৎপাদন হ্রাস করছেন।

ঝুঁকিতে কর্মসংস্থান

ভোলাব–ডাঙ্গা পোলট্রি সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, মুরগির খাদ্যের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ উপাদান আসে সয়াবিন ও ভুট্টা থেকে, যেগুলোর দাম আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে ডিমের দাম বাড়লেও বিক্রি কমছে।

তিনি জানান, ছয় মাস আগেও এই এলাকায় প্রতিদিন এক লাখ থেকে সোয়া লাখ ডিম উৎপাদন হতো। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৩০ হাজারে। এতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

খামারিদের অভিযোগ, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেটও ভূমিকা রাখছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রিগ্যান মোল্লা বলেন, কাঁচামালের দাম বেড়েছে—এটি বাস্তবতা। ভোলাব এলাকার পোলট্রি খামারিদের ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও খামারিদের সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

খামারি ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সমন্বিত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পোলট্রি শিল্প আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বলিউডে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শিল্পা শেঠি

বলিউডে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শিল্পা শেঠি