অবতরণের সময় ব্রেক ফেল, আরেকটি তেজস যুদ্ধবিমান হারালো ভারত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অবতরণের সময় ব্রেক ফেল, আরেকটি তেজস যুদ্ধবিমান হারালো ভারত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
অবতরণের সময় ব্রেক ফেল, আরেকটি তেজস যুদ্ধবিমান হারালো ভারত ছবির ক্যাপশন:

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান তেজস আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় ব্রেক ফেল বা অনবোর্ড সিস্টেমে ত্রুটির কারণে যুদ্ধবিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি এই দুর্ঘটনা ঘটে। অবতরণের সময় ব্রেক কাজ না করার কারণে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এ ঘটনায় বিমানটির কাঠামো দুমড়ে–মুচড়ে যায় এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী সম্ভবত আরও একটি তেজস বিমান হারিয়েছে। তবে পাইলট নিরাপদে ইজেকশন করতে সক্ষম হন এবং গুরুতর আহত হননি।

দুর্ঘটনার পর বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তদন্তের জন্য প্রায় ৩০টি তেজস জেটের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত রাখা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ব্রেক বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বিমান বিধ্বস্তের মূল কারণ হতে পারে।

পুরোপুরি ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানের এটি তৃতীয় বড় দুর্ঘটনা। প্রথমটি ঘটেছিল ২০২৪ সালের মার্চে, জয়সালমেরের কাছে, যেখানে পাইলট নিরাপদে ইজেকশন করেছিলেন। দ্বিতীয়টি ঘটেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে, দুবাই এয়ারশোতে বিমান প্রদর্শনের সময়; সেই ঘটনায় পাইলট নিহত হয়েছিলেন।

ভারতের বিমানবাহিনী এখনও এই সর্বশেষ দুর্ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক দুর্ঘটনার পর প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেজস জেট ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্রতিটি তেজস বিমানের অবতরণ এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষা আরও সতর্কতার সঙ্গে করা হবে। পাইলটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের ত্রুটি শনাক্ত করা এবং দ্রুত প্রতিকার করা হবে।

ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং ডিফেন্স প্রযুক্তি সংক্রান্ত সূত্রগুলোও জানাচ্ছে, তেজস বিমানগুলির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বিমান উৎপাদন ও পরীক্ষণ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, ব্রেক এবং অনবোর্ড সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে।

সংক্ষেপে, অবতরণের সময় ব্রেক ফেল বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তেজস যুদ্ধবিমানের এই দুর্ঘটনা ভারতের বিমানবাহিনীর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। নিরাপদে ইজেকশন করার কারণে পাইলট প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমান হারানো এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান এখন অগ্রাধিকার। আগামী দিনে ভারতের তেজস জেটের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
৫০ বছর আগের চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ট্রানজিট চায় নেপাল

৫০ বছর আগের চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ট্রানজিট চায় নেপাল