ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের মালখানায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল সংখ্যক মামলার আলামত ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) আদালত প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এতে মোট ২,৪৩২টি নিষ্পত্তি হওয়া মামলার জব্দ করা বিভিন্ন ধরনের আলামত ধ্বংস করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এসব আলামত বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন মামলায় জব্দ করা হয়েছিল এবং মামলাগুলো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আলামতগুলো মালখানায় সংরক্ষিত ছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর অবশেষে এসব আলামত ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে এই ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মালখানায় জমে থাকা আলামত সংরক্ষণ করা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে মামলার নিষ্পত্তির পর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় শেষে এগুলো অপসারণ বা ধ্বংস করার সুযোগ থাকে।
এ কার্যক্রমের সময় মালখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তাসহ আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আইনি বিধি অনুসারে ধ্বংস কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালতের মালখানায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আলামত শুধু জায়গার সংকটই তৈরি করে না, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। তাই নিয়মিতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার আলামত ধ্বংস বা অপসারণ করা হলে মালখানার কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়।
ঢাকার সিএমএম আদালতে এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের আলামত ধ্বংস কার্যক্রমকে একটি নিয়মিত প্রশাসনিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনের বিধান অনুযায়ী যেসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে, সেসব মামলার জব্দকৃত মালামাল সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়। ফলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এসব আলামত ধ্বংস করা হয়।
এদিনের কার্যক্রমে মোট ২,৪৩২টি মামলার বিভিন্ন ধরনের জব্দকৃত সামগ্রী ধ্বংস করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে আদালতের মালখানায় সংরক্ষিত ছিল। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন মামলার প্রমাণসামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আর প্রয়োজনীয় ছিল না।
আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে মালখানার ব্যবস্থাপনা আরও শৃঙ্খলিত হবে এবং সংরক্ষিত আলামতের জট কমে আসবে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই উদ্যোগ বিচার ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক