পুলিশ জানায়, শহরের উপকণ্ঠে নিজেদের বাড়ি থেকে দুই জনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলোর অবস্থান এবং চারপাশের চিহ্ন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। লুটপাটের ঘটনা না থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, নিহতদের পূর্বপরিচিত কেউ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফরেনসিক দল দিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। বাড়ির ভেতরের দরজার অবস্থা, জিনিসপত্রের অবস্থান এবং দেহে আঘাতের ধরন বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী, স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে সম্পর্কগত কোনো জটিলতা ছিল কি না— সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা হতবিহ্বল। এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল বলে কেউ কখনো শোনেনি। ফলে কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে সবার মনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা বিস্তারিত তদন্ত করছি। আলামত বিশ্লেষণ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
এদিকে দুই জনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এলাকার মানুষ হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পুরো এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কসমিক ডেস্ক