রংপুর-৪ এ উত্তেজনা, প্রাণনাশের আশঙ্কা আখতারের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রংপুর-৪ এ উত্তেজনা, প্রাণনাশের আশঙ্কা আখতারের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 14, 2026 ইং
রংপুর-৪ এ উত্তেজনা, প্রাণনাশের আশঙ্কা আখতারের ছবির ক্যাপশন:

রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনী উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিজয়ী প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা তাকে হত্যার পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে রংপুর নগরীর টাউন হল এলাকায় অবস্থিত জুলাই চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। আখতার হোসেন বলেন, “যে কোনো সময় তারা আমার আসনের লোককে মেরে ফেলতে পারে। আমাকেও মেরে ফেলতে পারে, এ ধরনের পরিস্থিতি তারা তৈরি করে রেখেছে।”

তার অভিযোগ, রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক-এর সমর্থকেরা পরাজয়ের পর তার পক্ষে কাজ করা ভোটারদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন রক্তাক্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এ নেতা।

এদিকে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি প্রার্থী ও তার সমর্থকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবার দুপুরে কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নেতাকর্মীরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন। এতে স্থানীয় জনজীবন বিঘ্নিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন দাবি করেন, ভোটের দিন এবং ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তোলা হয়নি। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাঠিসোটা হাতে মিছিল ও ভাঙচুর শুরু করা হয়। তিনি বলেন, “ভোট পুনর্গণনার আবেদন আইনগতভাবে করা যেতে পারে। কিন্তু তারা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।”

আখতার আরও অভিযোগ করেন, কাউনিয়া ও হারাগাছ এলাকায় তার দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এনসিপির জেলা কমিটির নেতা সুমনের বাড়িতে হামলা করে টাকা ও স্বর্ণ লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া প্রধান সমন্বয়কারী আরাফাতের বাড়ির গেট ভাঙচুর, জামায়াত কর্মী আব্দুল মমিনের বাড়িতে হামলা এবং দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলার অভিযোগ তোলেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পেশিশক্তির রাজনীতি করে মানুষকে খুন করে কেউ টিকে থাকতে পারেনি।” এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আখতার বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিও প্রমাণ পাঠানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, রংপুর-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এবারের নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোট পুনর্গণনার দাবি, সহিংসতার অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বর্তমানে প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে কাউনিয়া ও হারাগাছ এলাকা। স্থানীয়রা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর সহিংসতা ও উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষের সংযম ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখা জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঘন কুয়াশায় ঢাকার ৮টি ফ্লাইট নামল সিলেট, কলকাতা ও হ্যানয়ে

ঘন কুয়াশায় ঢাকার ৮টি ফ্লাইট নামল সিলেট, কলকাতা ও হ্যানয়ে