লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হামলায় ইসরায়েলি সেনারা গুরুতর আহত হয়েছেন। রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত আটজন সেনা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তি ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী এবং কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী বা জায়নিস্ট নেতা বেজালেল স্মতরিচের ছেলে বেনিয়া হেবরন। হামলার ফলে বেনিয়ার লিভার বা যকৃৎ—অর্থাৎ কলিজা—ছিন্নভিন্ন হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি জীবিত রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ মার্চ লেবানন সীমান্তের কাছে মর্টার শেল নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টের মাধ্যমে স্মতরিচ জানান, বিস্ফোরণের ধাতব টুকরা বা শার্পনেল তার ছেলের পিঠ ও পেটে ঢুকে যায়। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্মতরিচের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “ঈশ্বরের কৃপায় শার্পনেলের টুকরা বেনিয়ার লিভার ছিঁড়ে পেটের সবচেয়ে বড় রক্তনালির দেয়ালে আটকে যায়। যদি এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। লেবানন সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আহত সেনাদের চিকিৎসা ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই হামলা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবানন সীমান্তে এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী সামরিকভাবে ইরান সমর্থিত এবং পূর্বের সংঘাতে ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত হুমকি তৈরি করে এসেছে। সাম্প্রতিক হামলাটি সেই প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হঠাৎ আক্রমণ চালানো হয়।
উল্লেখ্য, আহত বেনিয়া হেবরন বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা মনিটরিং করা হচ্ছে। ইসরায়েলি পরিবার ও সরকারি সূত্র জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। হামলায় আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এবং সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের পুনরায় হামলা ঠেকাতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সংক্ষেপে, লেবাননের সীমান্তে হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তার লিভার ছিন্নভিন্ন হলেও ঈশ্বরের কৃপায় প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি মনিটরিং করছে এবং সীমান্তে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
কসমিক ডেস্ক