ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সাভার উন্নয়নের জন্য একটি বড় কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন নিজ হাতে অপসারণকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় সাভারকে মাদক, চাঁদাবাজি ও যানজটমুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গীকার করছেন।
ডা. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে, যাতে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত নিরসন করা যায়।
তিনি আরও বলেন, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং তীব্র যানজট সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা আর চলতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নবনির্বাচিত এমপি জানান, ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। এছাড়া ফুটপাত ও সড়ক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। খুব শিগ্গিরই মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু হবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এই উদ্যোগের সফলতার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রশাসনকে তথ্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডা. সালাউদ্দিন বাবু সাংবাদিকদের বলেন, ১০০ দিনের এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সাভারের চিত্র সম্পূর্ণভাবে পাল্টে যাবে। মানুষ স্বস্তি ফিরে পাবে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
সাভারবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের জন্য এই ঘোষণা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন, এখন দেখার বিষয় হলো, ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায়।
ডা. সালাউদ্দিন বাবুর এই উদ্যোগ সাভারের মানুষের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুসংগঠিত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যপ্রদর্শন করছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও যানজটমুক্ত শহর গড়ে তোলার এই কর্মসূচি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নাগরিক অংশগ্রহণের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে।