নীরব ভোট কি বদলে দিতে পারে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি? The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নীরব ভোট কি বদলে দিতে পারে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি?

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 20, 2026 ইং
নীরব ভোট কি বদলে দিতে পারে রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি? ছবির ক্যাপশন:
ad728

জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী বাঁক। এটি কোনো আকস্মিক ক্ষমতার রদবদল ছিল না; বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন–পীড়ন, ভয়, দলীয় নিয়ন্ত্রণ, বিচারহীনতা ও নাগরিক অসহায়ত্বের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই বিপ্লব রাষ্ট্র ও রাজনীতিকে একটি মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে— আমরা কি শুধু সরকার বদলাতে চেয়েছিলাম, নাকি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তিই বদলাতে চাই?

বাংলাদেশের রাজনীতি বহু বছর ধরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক এক বন্দোবস্তে আবদ্ধ ছিল। ক্ষমতা বদলেছে, কিন্তু ক্ষমতার চরিত্র বদলায়নি; শাসক বদলেছে, কিন্তু শাসনের ধরন বদলায়নি। এর ফল ভোগ করেছে সাধারণ মানুষ— অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপ কমেনি। জুলাই বিপ্লব সেই চক্র ভাঙার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বলে, সুযোগ এলেই পরিবর্তন ঘটে না; পরিবর্তন ঘটাতে হয় সচেতন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

আজ একটি বাস্তবতা স্পষ্ট— পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর আগের মতো গ্রহণযোগ্য নয়। একই মুখ, একই প্রতীক ও একই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তিতে মানুষ ক্লান্ত। জনগণ এখন স্লোগান নয়, হিসাব চায়; আবেগ নয়, জবাবদিহি চায়; ব্যক্তিপূজা নয়, প্রতিষ্ঠান চায়। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, মানুষ আর ব্যক্তিনির্ভর ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির কাছে জিম্মি থাকতে রাজি নয়। রাজনৈতিক শক্তিকে এখন বিচার করা হচ্ছে সংগঠন, নৈতিকতা ও ধারাবাহিকতার মানদণ্ডে।

এই বাস্তবতায় নারী ভোটারদের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠেছে। তারা আর নীরব দর্শক নন। সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, ন্যায়বিচার ও পারিবারিক নিরাপত্তার প্রশ্নে নারীরা সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তরুণ সমাজ পুরোনো সংঘাতনির্ভর রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করছে। তারা প্রতিশোধ নয়, পরিকল্পনা চায়; বিশৃঙ্খলা নয়, শৃঙ্খলা ও দিকনির্দেশনা চায়। সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এই মানসিক পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

এই সন্ধিক্ষণে ভোট আর শুধু একটি ব্যালট নয়; এটি ভবিষ্যৎ নির্ধারণের হাতিয়ার এবং নাগরিক বিবেকের স্বাক্ষর। একটি ভোট মানে শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়, নিজের নৈতিক অবস্থান ঘোষণা করা। ভয়, প্রলোভন বা সাময়িক সুবিধার কাছে বিবেক হার মানলে পরাজিত হয় শুধু একজন ভোটার নয়— পরাজিত হয় পুরো রাষ্ট্র।

বাংলাদেশ আজ সিদ্ধান্তের মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রশ্নটি অত্যন্ত স্পষ্ট— এই ভোট কি আজাদির পথে যাবে, নাকি পুরোনো বন্দোবস্তকে নতুন রূপে বৈধতা দেবে? এর উত্তর লেখা হবে ভোটকেন্দ্রে। ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, এই সন্ধিক্ষণে জনগণ কী সিদ্ধান্ত নেয়। যদি ভয় ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে বিবেকের পক্ষে দাঁড়ানো যায়, তবে প্রতিটি নীরব ভোটই হয়ে উঠবে এক একটি শক্তিশালী ঘোষণা। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের উত্তর নিহিত নীরব ভোটবিপ্লবেই।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঢাকায়, সারাদেশে শীত বাড়ার পূর্বা

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ঢাকায়, সারাদেশে শীত বাড়ার পূর্বা