দেশে সব পণ্য সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্যে বিক্রি হলেও সিগারেট ও বিড়ির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ হচ্ছে না। সিগারেট কোম্পানিগুলো খুচরা মূল্যে বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে, আর বিক্রেতারা তা চেয়ে বেশি মূল্যে ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করছেন। প্যাকেটে উল্লিখিত সর্বোচ্চ মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বাজারে বিক্রি হওয়ায় রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ বছরে ৫ হাজার ১৮২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো (বিইআর) ও বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি) যৌথভাবে পরিচালিত ‘সিগারেটের বাজার নিয়ন্ত্রণে কম্পানির কৌশল ও রাজস্ব আদায়ে এর প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্য ১২টি শহরের ৪৮টি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অতিউচ্চ স্তরে ৫১০ কোটি ৩১ লাখ, উচ্চ স্তরে ১২৪ কোটি ৪০ লাখ, মধ্যম স্তরে ১,৯২৫ কোটি ৫৮ লাখ এবং নিম্ন স্তরে ২,৬২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে।
সভায় বক্তারা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে সিগারেট বিক্রি নিশ্চিত করা, নিয়ম অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনা, বাজার মনিটরিংয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ ও সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ করার মতো সুপারিশ প্রদান করেন। এছাড়া বহু স্তরের সিগারেট এক স্তরে আনা এবং সরকারকে তামাক কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব থেকে বিরত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সিগারেটের রাজস্ব ফাঁকি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৫টি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক বাজেটের সমান। এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে সারাদেশে হৃদরোগের বিনামূল্য চিকিৎসা প্রদান সম্ভব। গবেষকরা চেয়েছেন, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে এনবিআরের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি ও শক্তিশালী বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার ড. সৈয়দ মাহফুজুল হক সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, এনটিসিসি’র সাবেক সমন্বয়কারী হোসেন আলী খোন্দকার, জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম এবং বিএনটিটিপি’র প্রজেক্ট ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম অংশ নেন।
সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যে দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ফাঁকি রোধ না করা গেলে দেশীয় স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য খুচরা মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার পর্যবেক্ষণ ও কঠোর আইন প্রয়োগ অপরিহার্য বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন।
কসমিক ডেস্ক